SEO তে আমরা যে ১০ টি ভুল করে থাকি

২০১৯  সালে দাঁড়িয়ে প্রতি সেকেন্ডে অনলাইনে নতুন নতুন কনটেন্ট প্রকাশিত হয়ে চলেছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে এদের প্রচার ও বেড়ে চলেছে। গ্রাহকরা তাদের উত্তরের সন্ধানে ক্রমশ স্ব-পরিচালিত হয়ে উঠেছেন। এর মধ্যেই আপনাকে দর্শকদের বা পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। যারা উত্তরের সন্ধানে আছেন তাদেরকে আপনার ওয়েবসাইটের দিকে আকর্ষণ করতে হবে, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক এসইও।

আপনি যদি এসইওতে কিছু সাধারণ / কমন ভুল করেন তাহলে কিন্তু আপনি এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়বেন। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক প্রথাগত এসইও এর ভুল গুলি কিভাবে এড়ানো যায়। নিচে সচরাচর করা এমন ১০টি গুলি নিয়ে আলোচনা করা হলো:

SEO তে ১০টি ভুল

১) একটি শব্দ দিয়ে কোন কনটেন্ট বা লেখাকে অপটিমাইজ করা - কিছু বছর পিছিয়ে গেলে দেখতে পাব যে নির্দিষ্ট কোন কিওয়ার্ড কে ব্যবহার করে কোন পোস্ট কে অপটিমাইজ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে নির্দিষ্ট কোন কিওয়ার্ড ব্যবহার করে কোন পোস্ট কে অপটিমাইজ করাটা ঠিক নয় এরকম ভুল কে এড়িয়ে চলতে হবে। বরং আপনাকে একটা কীওয়ার্ড ব্যাচ তৈরী করে, সেই কীওয়ার্ড ব্যাচ এর উপর নির্ভর করে কনটেন্ট লিখতে হবে।

২) অন্যের লেখাকে নকল করে সেটাকে পাবলিশ করা - আমরা অনেক সময় ব্লগে কোন পোস্ট করতে হলে অন্যের লেখা কপি করে অথবা যদি কোন ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে লেখাই তিনি কোথা থেকে কপি করছেন তা দেখিনা, এই ধরনের ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। কনটেন্ট নকল কিনা সেটি চেক করার জন্য এই টুলটি ব্যবহার করতে পারেন (Tool: Copyscrape), এটি কপি চেক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট।

৩) গুগোল এর দ্বারা সাজেস্টেড কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা - আমরা যখনই কিওয়ার্ড নিয়ে রিসার্চ করি তখন গুগোল কিছু সাজেস্টেড কিবোর্ড দেয় সেগুলো কে অবশ্যই ব্যবহার করবেন তাতে আপনার ওয়েবসাইটটি কিংবা ওয়েব পোস্টটি খুব সহজেই অপটিমাইজ হবে এবং Google এ রেঙ্ক করা সহজ হবে।

৪) সময়ের সঙ্গে কন্টাক্ট আপডেট না করা - আপনি হয়তো বিগত বছরগুলিতে অনেকগুলি কন্টেন্ট তৈরি করেছেন কিন্তু সময়ের সঙ্গে সে গুলোকে আপডেট করেন নি। আপনাকে চেষ্টা করতে হবে আপনার সবচেয়ে বেশি পাঠরত পোস্টটিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করা তাতে সার্চ ইঞ্জিনে ওই পোস্টটির রেঙ্কিং ইম্প্রোভ হবে।

৫) নিজের স্থানীয় ভাষা (টার্গেটেড লোকেশন) এবং স্থানীয় মানুষের কথা মাথায় রেখে পোস্ট বা কনটেন্ট লিখতে হবে।

৬) নিয়মিত নিজের ওয়েবসাইট থেকে নিরীক্ষণ বা চেক করতে হবে - যদি আমরা সময়ের সাথে সাথে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিরীক্ষণ না করি তাতে প্রযুক্তিগত কিছু ভুল ত্রুটি থেকে যেতে পারে যেমন নকল কনটেন্ট, ব্রোকেন লিঙ্ক, আনঅপটিমিজড মেটা ট্যাগ, আস্তে আস্তে ওয়েবসাইট লোডিং ইত্যাদি।

৭) ওয়েবসাইটিকে অবশ্যই মোবাইল ইউজার ফ্রেন্ডলি করতে হবে।

৮) পেজ লোডিং স্পীড - আমি আগের পয়েন্ট ও আলোচনা করেছি, আপনাকে ওয়েবসাইট নিরীক্ষণ করতে হবে এবং পেজ যাতে দ্রুত লোড হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি লোডিং স্পীড কম থাকে তাহলে আপনার ওয়েব সাইটে ট্রাফিক কমে যাবে।

৯) কনটেন্ট রিলেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহার করা - আপনি যে কনটেন্টটি লিখছেন বা যে আর্টিকেলটি লিখছেন সেটা সঙ্গে সম্পর্কিত কিওয়ার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। কনটেন্ট এর টাইটেল, কনটেন্টের মূল অংশ, সব জায়গাতেই কিওয়ার্ড থাকতে হবে তবেই কিন্তু পোস্টটি Google এ রাঙ্ক করা সহজ হবে।

১০) কীওয়ার্ড এর অবস্থান ট্র্যাক না করা - আপনি যে কনটেন্টটি লিখেছেন তার সঙ্গে সম্পর্কিত যে কি-ওয়ার্ড গুলি দিয়েছেন সেগুলো Google rank এ কতটা এগিয়ে আছে বা কিভাবে কাজ করছে সে গুলোকে প্রত্যেকদিন ট্র্যাক করতে হবে।

১১) আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হল: ইউ আর এল বা সাইটের গঠন অপটিমাইজ না করা, আপনার সাইটে Crawled বা Bot কে বাধা দেওয়া যাবে না, গুগল ছাড়াও অন্যান্য অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুলির জন্য নিজের ওয়েবসাইট বা ওয়েব পোস্টটিকে অপটিমাইজড করতে হবে, অযথা ব্লগে অতিরিক্ত ট্যাগ ব্যবহার করা যাবে না, ইত্যাদি।

শেষের কথা

সবশেষে বলা যেতে পারে, উপরের যে পয়েন্টগুলি আলোচনা করা হয়েছে এই রকম ভুল গুলি এড়িয়ে চলতে পারলেই আমাদের ব্লগ বা ওয়েব সাইট Google এ ভালো রাঙ্ক পাবে, সাথে সাথে ভালো ট্রাফিক ও পাবে।